সকাল ৭:০৯, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট মোড়ে প্রথমবারের মতো আন্ডারপাস নির্মাণ হতে যাচ্ছে। প্রায় ছয় মাস সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর নকশা প্রণয়ন করে দরপত্র আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ৪১ দশমিক ২ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ মিটার প্রশস্ত আন্ডারপাসটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা।

চসিকের তথ্যমতে, নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক বহাদ্দারহাট এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ রাস্তা পারাপার হন। চারদিকে সংযোগ সড়ক থাকায় এই মোড়ে গাড়ির চাপও থাকে বেশি। ফলে সড়ক পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সিটি করপোরেশন প্রথমে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের চিন্তা করেছিল। কিন্তু সেখানে ফ্লাইওভারের উচ্চতা খুব নিচু হয়ে গেছে। এজন্য আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সের সামনে একটি এবং এর সোজা আরাকান সড়কের উত্তর পাশে আরেকটি প্রবেশপথ থাকবে আন্ডারপাসটির। ৪১ দশমিক ২ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ মিটার প্রশস্ত আন্ডারপাসটির উচ্চতা হবে ৪ মিটার। দুই প্রবেশ মুখে একটি করে দুইটি সিঁড়ি থাকবে। এছাড়া একটি করে দুইটি স্কেলেটরও (চলন্ত সিঁড়ি)। আন্ডারপাসের ভেতর হকার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দুইপাশে ১০টি করে ২০টি দোকান নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি দোকানের জন্য আন্ডারপাসের ২ দশমিক ৭৫ মিটার জায়গা লাগবে। দোকানের বাইরে মাঝখানে সাড়ে ৪ মিটার বা প্রায় ১৫ ফুট জায়গা থাকবে মানুষের হাঁটার জন্য। এছাড়া জলাবদ্ধতায় পানি প্রবেশরোধে আন্ডারপাসের প্রবেশমুখ হবে ক্যানোপি আকৃতির। কোনো কারণে পানি প্রবেশ করলে তা নিষ্কাশনে থাকবে দুইটি পাম্প। এছাড়া পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে এবং বেশ কয়েকটি এডযাস্ট ফ্যানও থাকবে ভেতরে। গত ২৮ এপ্রিল আন্ডারপাসের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। আগামী ২৭ মে দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন।

চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বহদ্দারহাট খুব গুরুত্বপূর্ণ মোড়। প্রচুর মানুষের জমায়েত হয়। মানুষের নিরাপদ রাস্তা পারাপার করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে। লোকজন স্বাচ্ছ্যন্দ্যে ও নির্ভয়ে রাস্তা পার হতে পারে না। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষ যেন খুব সহজে রাস্তা পার হতে পারে এজন্য আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিই।