সকাল ৭:১৩, রবিবার, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রতারকের কাছ থেকে লাখ টাকার সৌদি রিয়াল কিনে পুটলি খুলে পেলেন সাদা কাগজ

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন

রাউজানে মাদরাসার এক শিক্ষক সৌদি রিয়ালের লোভে পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হারিয়েছেন। উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। এ বিষয়ে রাউজান থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, সম্প্রতি ওমর ফারুক চিকিৎসা নিতে স্ত্রীকে নিয়ে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে পরিচয় হয় প্রতারক চক্রের এক সদস্য সঙ্গে। কথা বলার এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রতারক ওই শিক্ষককে একটি ৫০ টাকা মূল্যমানের রিয়াল দেখিয়ে বিনিময়ে কিছু টাকা চান। শিক্ষক তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে রিয়ালটি হাতে নিয়ে টাকা বিনিময় করেন। এ সময় ওই প্রতারক শিক্ষকের মোবাইল নম্বরটি নেয়।

গত ১৯ মে ওই প্রতারক শিক্ষককে ফোন করে জানায়, তার কাছে আরো বেশ কিছু সৌদি রিয়াল আছে। আগের দরে ওসব রিয়াল চাইলে কিনতে পারবেন। শিক্ষক প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে সৌদি মুদ্রা কিনতে রাজি হন। রাউজান ফকিরহাটের এক স্বর্ণ দোকানে স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন। এই টাকা নিয়ে তারা চলে যান প্রতারক চক্রের দেয়া ঠিকানা দক্ষিণ রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায়। প্রতারক দল সেখানে একটি পুটলি নিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রতারকরা শিক্ষকের কাছ থেকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা গুণে নিয়ে তাদের হাতে থাকা কাপড়ের পুটলিটি শিক্ষককের হাতে দিয়ে দ্রুত চলে যেতে বলে।

তাদের কথা মতো শিক্ষকও স্ত্রীকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। পরে একটু দূরে এসে পুটলিটি খুলে দেখেন পুটলির ভিতর কাগজ ছাড়া কিছুই নেই। দৌড়ে ঘটনা স্থলে যেতেই উধাও হয়ে যান প্রতারক চক্র। পরে মাদরাসা শিক্ষক ওমর ফারুক এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন।

প্রতারণার শিকার হাফেজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, তার সন্তানরা সৌদি আরবে থাকেন। তিনি জানান, রিয়ালগুলো বিক্রি করে কিছু লাভ হলে সেই টাকা তার অভাবগ্রস্ত মেয়েকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন।

হাফেজ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের অভিযোগটি তদন্ত করছেন রাউজান থানার উপপরিদর্শক এসআই হোসাইন। তিনি বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে নির্বাচন ছিল তাই এ নিয়ে খোঁজ খবর নিতে পারিনি। কালকেই আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির তদন্ত শুরু করবো।