ভোর ৫:০৬, মঙ্গলবার, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অন্ধকার থেকে আলোর জীবনে ফিরতে যাচ্ছেন ৫০ জলদস্যু

আজকের সারাদেশ প্রতিবেদন

সরকারের আহ্বানে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে অন্ধকার থেকে আলোর জীবন ফিরতে যাচ্ছেন উপকূলীয় ১৮ বাহিনী ৫০ জলদস্যু।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে নগরীর পতেঙ্গাস্থ র‍্যাব-৭ এর সদর দফতর মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালে উপস্থিতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। এ উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান।

র‌্যাব-৭ জানায়, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ, র‍্যাবের মহাপরিচালক খুরশিদ হোসেন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নুরে আলম মিনা, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করবে জলদস্যুরা।

র‌্যাব জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সীমানার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এই সাগরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। বিশাল এই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উপার্জনের অন্যতম আশ্রয়স্থলকে কণ্টকাকীর্ণ করে রাখে কিছু অস্ত্রধারী বিপথগামী জলদস্যু। জলদস্যু দমনে সরকারের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে র‌্যাব সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। র‌্যাবের কঠোর ভূমিকায় ইতিমধ্যে সুন্দরবন অঞ্চলের জলদস্যুরা বিগত সময়ে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। এর ফলে ২০১৮ সালের গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপার ঐশ্বর্যের অপূর্ব লীলাভূমি সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে র‌্যাবের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে র‌্যাব-৭ এর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল হতে সর্বমোট ৭৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। এতে অত্র অঞ্চলের জলভাগে দস্যুতার ঘটনা কমে গেছে। আজকের এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল জলদস্যুমুক্ত হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। ফলশ্রুতিতে এই অঞ্চলের সাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আগামীর দিনগুলোতে আরো বেগবান হবে।

চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। এ সকল মানুষের মধ্যে অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। আর এসব এলাকার স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা প্রতিনিয়ত এই জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে অদ্যাবধি বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ৩৪২ জন কুখ্যাত জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করে এবং দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ৬০৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ ২৯,১২৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এছাড়াও গত ২০১৮ এবং ২০২০ সালে ৭৭ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে সরকারি ও বেসরকারি প্রণোদনায় পুনর্বাসিত হয়। যার ফলে বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।

এসব জলদস্যুপ্রবণ এলাকায় র‌্যাবের অবিরাম টহল এবং কঠোর মনোভাব প্রদর্শনের ফলে জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এছাড়াও র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ক্রমাগত অভিযান, সক্রিয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি এবং কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে জলদস্যুদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এসব কারণে জলদস্যুরা স্ব-প্রণোদিত হয়ে তাদের কাছে থাকা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা পোষণ করে।

ইতিপূর্বে র‌্যাব-৭, র‌্যাব-৬ এবং র‌্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে বাঁশখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া এবং সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চল হতে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অবলোকন করার ফলেও এসব জলদস্যুরা আত্মসমর্পণে অনুপ্রাণিত বোধ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতিতে এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করানোর বিষয়টি এক যুগান্তকারী ঘটনা।

২০১৮ এবং ২০২০ সালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের ৭৭ জন জলদস্যুর সফল আত্মসমর্পণ, অন্যান্য জলদস্যুদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাদের মনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনার আশার আলো জেগে ওঠে। যার ফলে বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের জলদস্যুরা তাদের দস্যু জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আশার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম তাদের জন্য আজকের এই আত্মসমর্পণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩০ মে) শর্তহীনভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ১৮টি বাহিনীর মোট ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করছে। এদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা জলদস্যু রয়েছে। এই ৫০ জন জলদস্যুর মধ্যে তিনজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের তালিকা ও জমাকৃত অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির বিবরণ ক্রোড়পত্র ‘ক’ তে এবং জলদস্যু বাহিনী অনুযায়ী জলদস্যুদের নামীয় তালিকা ক্রোড়পত্র ‘খ’ হিসেবে দেওয়া হলো।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সুসংগঠিত, ভয়ংকর, দুর্ধর্ষ ও সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর নেতা ও সদস্য। এসব বাহিনীর সকল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সদলবলে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট আত্মসমর্পণ এর ফলে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যুতায় নিয়োজিত অন্যান্য জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দারুণভাবে উৎসাহিত হবে বলে আশা করা যায়। বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জলদস্যু অথবা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার লক্ষ্যে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর ধারাবাহিক অভিযান সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ

সিলেটে বন্যার পানিতে ভেসে গেল লাখো মানুষের ঈদ আনন্দ

এবার সেন্টমার্টিনের অদূরে দেখা গেল নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ

ঈদের জামাতে আচমকা পড়ে গেলেন আ জ ম নাছির, ধরে তুললেন নওফেল

বিশ্বকাপে ‘ডট বলের বিশ্বরেকর্ড’ তানজিম সাকিবের

বিশ্বকাপের রেকর্ড ভেঙে সুপার এইট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর থাকার নির্দেশ

২৪ মণ ওজনের ‘শান্ত’র দাম ৮ লাখ, কিনলেই ফ্রি ৩ মণের ‘অশান্ত’

ঈদের ছুটিতে মূল্যবান সম্পদ রেখে যেতে পারবেন থানায়: সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রামে সাড়ে ৩ লাখ কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের প্রস্তুতি, মজুত রাখা হয়েছে ২১ হাজার টন লবণ

মাঝ নদীতে সন্তান প্রসব, মা-শিশুর আজীবন ভাড়া ফ্রি করল জাহাজ কর্তৃপক্ষ